
হাঁস চুরির ঘটনায় বসেছে গ্রাম্য সালিশ, সালিশে চুর প্রমানিত হওয়ায় চোরকে নাকে খত দেওয়ার ঘটনায় অপমানিত হয়ে রাগে ক্ষোভে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে নিজেদের বসতঘরের আঁড়ার সাথে গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা পথ বেচে নেয় মাসুম(২০)। টের পেয়ে স্থানীয়রা এসে মাসুমের মৃত্যুর বিষয়টি পুলিশকে জানায়।
(৮ মার্চ) চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চরমথুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মৃত মো. মাসুম চরমথুরা গ্রামের মিজি বাড়ির আলাউদ্দিন মিয়ার ছেলে। খবর পেয়ে মৃতের মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।
জানা যায়, একই গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ির মৃত মোফাজ্জল পাটওয়ারীর ছেলে মো. নয়ন পাটওয়ারীর ২টি চিনা হাঁস ও ১টি দেশীয় প্রজাতির হাঁস শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে চুরি করে মাসুম। পরের দিন সকালে হাঁস না পেয়ে চুরির শিকার নয়নের পরিবারের লোকজন জানতে পারে হাঁসটি একই গ্রামের মো. মাসুম গংরা চুরি করে প্রতিবেশি গৃহবধু রাবেয়া’র কাছে বিক্রি করে দেয়। এই চুরির ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক মাসুমের বাড়িতে রবিবার (৮ মার্চ) দুপুরে স্থানীয় ইউপি সদস্যের উপস্থিতিতে গ্রাম্য সালিশ বসে। সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে চুরির অপরাধ স্কীকার করায় মাসুমকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও নাকে খত দেওয়ানোর মধ্যদিয়ে শালিস সমাপ্ত করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, মাসুম এর আগেও বিভিন্ন স্থানে চুরি করেছে। এ হাঁস চুরির ঘটনায় অপরাধ স্কীকার করায় তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও পরবর্তিতে এমন ঘটনা না ঘটানোর জন্য তাকে নাকে খত দেওয়ানো হয়। সন্ধ্যায় সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এর বাহিরে আমার আর কিছু জানা নেই।
মাসুমের বাবা আলাউদ্দিন মিয়া বলেন, আমার ছেলেকে চুরির অপবাদ দিয়ে আমাদের বসতঘরে এসে মারধর করেছে নয়ন গংরা। মেম্বারের নের্তৃত্বে একতরফা সালিশ করে আমার ছেলেকে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে। অপমান সইতে না পেরে আমার ছেলে আত্মহত্যা করেছে। ছেলের মৃৃত্যুর জন্য মেম্বার, সালিশদার ও নয়নরা দায়ী, আমি উচিৎ বিচার চাই। একই অভিযোগ নয়নের মা ও স্বজনদের।
চুরিকৃত হাঁসের মালিক নয়ন পাটওয়ারী বলেন, আমার হাঁস চুরির ঘটনায় মেম্বার ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে জানালে তারা বিচার করে দিয়েছে, রায়ে আমি সন্তুষ্ট। আমার বিরুদ্ধে আনিত মারধরের অভিযোগ সত্য নয়।
ফরিদগঞ্জ থানার উপপুলিশ পরিদর্শক মো. হেলালউদ্দিন বলেন, মাসুমের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন করা হয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হয়ে পরবর্তি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।#
