
জন্মদাতা পিতা ও বোনকে ছুরিকাঘাত করে ফেসবুকে ঘাতক ছেলের নাটকীয় লাইভ: কুমিল্লায় চাঞ্চল্য
বিশেষ প্রতিনিধি, কুমিল্লা:
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে নিজের জন্মদাতা পিতা ও আপন বোনকে নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাত করে মারাত্মক জখম করার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে।
১৩ সেপ্টেম্বর (শনিবার) বিকেল পাঁচটায় উপজেলার ৪ নং বারোপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মোহাম্মদ বাবুল হোসেনের বাড়িতে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত যুবকের নাম মোহাম্মদ হানিফ, যিনি ভুক্তভোগী বাবুল হোসেনের বড় ছেলে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়,শনিবার বিকেলে পারিবারিক কলহের জের ধরে হানিফ তার বাবা বাবুল মিয়ার ওপর ধারালো ছুরি নিয়ে আচমকা হামলা চালায় এবং তাকে মারাত্মকভাবে জখম করে। এ সময় ছোট বোন জাহেদা বেগম পিতাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে উন্মত্ত হানিফ তাকেও উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে ঘটনাস্থলে এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মারাত্মক আহত অবস্থায় পিতা ও বোনকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পরপরই এলাকা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তবে ঘটনার নৃশংসতাকে আড়াল করতে এবং নিজেকে বাঁচাতে অভিযুক্ত হানিফ এক অদ্ভুত কৌশলের আশ্রয় নেয়। ঘটনার পর পরই সে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ফেসবুক লাইভে’ এসে দাবি করে—তাকে নাকি আঘাত করা হয়েছে।
তবে ভুক্তভোগী বাবা বাবুল মিয়া ঘটনার বর্ণনায় ভিন্ন কথা জানান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি আকুতি জানিয়ে বলেন, “আমাকে এবং আমার মেয়েকে ধারালো ছুরি দিয়ে নৃশংসভাবে আঘাত করার পর হানিফ নিজে আইনি ঝামেলা থেকে বাঁচতে নিজের হাতে নিজেই ছুরি দিয়ে আঘাত করে। এরপর সে একটি মিথ্যা ফেসবুক লাইভ করে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।”
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্ত হানিফের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদর দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান এই বিষয়ে মামলা হয়েছে । ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
