খোলা চোখে www.openeyedbd.com

খোলা চোখে

খবরের অন্তরালে

ফরিদগঞ্জে চুরির অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪নেতা গ্রেফতার

Spread the love

ফরিদগঞ্জে চুরির অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪নেতা গ্রেফতার 

‎

ফরিদগঞ্জে আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়কসহ স্বেচ্ছাসেবক দলের চার নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।  উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ছবুর পাটওয়ারী প্রকাশে রুবেল (৪০), যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়া উদ্দিন চৌধুরী (৪০), রাজু পাটওয়ারী (৪২) ও আরিফ তফদার। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মারধর, চারটি চেকের পাতা, একটি মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। স্থানীয় পাটওয়ারী বাজার এলাকার শোশাইরচর গ্রামের মোঃ কামাল হোসেন প্রকাশ্য মোস্তফা (৩৬)এর অভিযোগের ভিত্তিতে তাদেন আটক করা হয়।

 ১৪ই অক্টোবর রাতে এই চারজনকে ফরিদগঞ্জ বাজার থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এরশাদ উল্লাহ জানিয়েছেন। 

যদিও স্বজনদের দাবি তাদের থানায় ডেকে নিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে।

‎অভিযোগে জানা গেছে, বাদীর বাবার মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এম.আর.কে ট্রেডার্স দোকান, ভূমিসহ একটি পাকা বাড়ীর অনুকুলে ব্যাংক কর্তৃক মরগেজ লোন গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ব্যাংক কর্তৃক লোন পরিশোধ করতে না পারায় বাদীর পিতা উক্ত এম.আর কে ট্রেডার্স দোকান ও বাড়ীটি বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

তে, সম্পত্তির মূল্য ১,৯৫,০০,০০০ (এক কোটি পচানব্বই লক্ষ) টাকা নির্ধারণ করে, ২,০০,০০০ (দুই লক্ষ) টাকা বায়নানামার মাধ্যমে স্থানীয় বালিথুবা গ্রামের আবু সাইদের ছেলে ও ১নং বিবাদী শরীফুল ইসলাম (৩৮) ১৫ই ডিসেম্বর ২০২৫ খ্রিঃ তারিখে চুক্তিবদ্ধ হন।

‎

‎কিন্তু, চুক্তির মেয়াদ মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও ১নং বিবাদী উক্ত ভূমি ও ভবন রেজিস্ট্রি না করে কালক্ষেপনসহ তালবাহানা করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। বাদী দাবী করেন, আমার পিতা নিরুপায় হয়ে এবং ব্যাংকের দায়মুক্ত হতে আত্মীয় স্বজনদের নিকট থেকে টাকা ধার নিয়ে লোন পরিশোধ করে এবং ১নং বিবাদীর সাথে বায়নাকৃত ২,০০,০০০ টাকা তাঁর ইউসিবি ব্যাংক একাউন্ট ০৭২৩২০১০০০৬৫৮৩৫৮ নম্বরে গত ০৫ই অক্টোবর ২০২৬ খ্রিঃ তারিখে জমা প্রদান করেন।

‎

‎বাদী আরও দাবী করেন, বায়নার মেয়াদ উত্তীর্ণের পর ব্যাংকে টাকা জমা দিয়েও ১নং বিবাদীর নেতৃত্বে ১২ই অক্টোবর ২০২৬ খ্রি তারিখ বিকাল অনুমান ০৪টা ৩০ মিনিটে ২ থেকে ১৬ নম্বর বিবাদীগণসহ অজ্ঞাতনামা আরো ১০/১৫ জন বিবাদীসহ দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রসহ বেআইনী জনতাবদ্ধে দলবদ্ধ হয়ে আমাদের দোকানে অনধিকার প্রবেশ করতঃ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। তখন আমি বাধা প্রদান করলে ১নং বিবাদীসহ সকল বিবাদীরা এলোপাথাড়ি আমাকে কিল, ঘুষি ও লাথি মারিতে থাকে। একপর্যায়ে সকল বিবাদীগণ আমাকে টানা হেঁচড়া ও দোকান থেকে বের করে রাস্তার উপর বৈদ্যুতিক খুটির সাথে বেঁধে মারধর করে। এতে আমার বাম চোখের নিচে, বাম কানের পিছনে, পিঠে, হাতে এবং মাথায়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। এক পর্যায়ে আমার গলা চেপে ধরে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার চেষ্টা করে। সংবাদ পাইয়া ১ ও ৪নং সাক্ষীগণ আমাকে জীবনে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাদেরকেও আটক করে সকল বিবাদীগণ এলোপাথাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করে। বিবাদীরা আমার দোকানে থাকা ০৪টি সিসি ক্যামেরা, স্কেল মেশিন, সার্টার ভাংচুর করে অনুমান ১,০৫,০০০ (এক লাখ পাঁচ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে। তারা, আমার দোকানের ক্যাশে থাকা নগদ ৮০,০০০ (আশি হাজার) টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। তাছাড়া, আমার পিতা মিজানুর রহমানের নামীয় জনতা ব্যাংকের হিসাব নং ০১০০২৫৯৫৪২২৭২ এর স্বাক্ষরিত ০৪টি চেকের পাতা, যথাক্রমে: ঈউ ৬০০৩ ১৯০৯২২১, ঈউ ৬০০৩ ১৯০৯২২২, ঈউ ৬০০৩ ১৯০৯২২৩, ঈউ ৬০০৩ ১৯০৯২২৪ মারধর করে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়ে যায়। ঈউ ৬০০৩ ১৯০৯২২১ নং চেকের পাতায় ১,০৩,০০০/ (এক লাখ তিন হাজার) টাকার অংক লেখা ছিল। অপরগুলোতে টাকার অংক লেখা ছিল না। ১নং বিবাদীর নির্দেশে আসামী রায়হান এবং শাহিদ আখন্দ আমার ব্যবহৃত ০১টি সুজুকি (এসএফ) মোটর সাইকেল, যার রেজিঃ নং কুমিল্লা ল ১৪-২৯৪০, ১৫৫ সিসি, মুল্য: ৩,৩৩,০০০ (তিন লাখ তেত্রিশ হাজার) টাকা এবং উক্ত গাড়ীর কাগজপত্রসহ আমার নিজ নামীয় ড্রাইভিং লাইসেন্স চুরি করে নিয়ে যায়। মারধরের সময় ৩নং সাক্ষী আমাদেরকে উদ্ধার করার জন্য এগিয়ে এলে বিবাদীদের মধ্যে একজন তার ব্যবহৃত একটি এ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ওয়ান প্লাস-১৫, মুল্য অনুমান ৮০,০০০ (আশি হাজার) টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে ১নং বিবাদীর নির্দেশে অন্যান্য বিবাদীরা আমাদের গেইটে তালা লাগিয়ে দেয়। বাজারসহ আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা বিবাদীরা খুন করবে বলে আমিসহ আমার পরিবারের লোকজনকে হুমকি ধমকি দিয়ে চলে যায়। আমি জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯–এ কল দিলে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ এসে পাটওয়ারী বাজার কমিটির সহায়তায় আমাদের গেইটের তালা খুলে দিতে সহায়তা করে এবং চিকিৎসা গ্রহণ করতঃ আমাদেরকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার পরামর্শ প্রদান করেন। আমি কতেক সাক্ষীগণের সহায়তায় জখমী অবস্থায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, চাঁদপুরে এবং ১ ও ৪নং সাক্ষীদ্বয় স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা গ্রহণ করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা মাহফুজুর রহমান টিপু বলেন “আমাদের চারজন নেতাকর্মী ঘটনার শেষের দিকে সেখানে যায়। মারামারি বা অন্য কোনো ঘটনায় তারা লিপ্ত ছিলো না। পুলিশের তদন্ত রিপোর্টে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয় থাকলে আমাদের দেখার বিষয় না”।

‎থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এরশাদ উল্লাহ বলেছেন, বাদী শরিফুল ইসলাম কর্তৃক অভিযোগ প্রাপ্ত হয়ে আমাদের চাঁদপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশ অভিযুক্তদেরকে ফরিদগঞ্জ বাজার থেকে গ্রেফতার করে কোর্টে প্রেরণ করে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *