. অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসনের তদন্ত
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের ফকির বাজারে মা মেডিসিন কর্নারে চেম্বার বসিয়ে রিয়াজুল হক ওরপে রিয়াজ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ইউনিয়নের ফরিক বাজারের গল্লাক বাজার রোর্ড অবস্থিত মা মেডিসিন কর্নার-এ কথিত চিকিৎসক রিয়াজুল হক (ওরফে রিয়াজ)-এর কাছে অ্যালার্জিজনিত সমস্যার চিকিৎসা নিতে গেলে একাধিক শিশু ও নারীকে ইনজেকশন দেওয়া হয়। এরপর তাদের শরীরে গুরুতর স্বাস্থ্যজটিলতা দেখা দেয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, যেসব স্থানে ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে, সেসব স্থানে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষত আরও গুরুতর আকার ধারণ করছে এবং আক্রান্তদের কেউ কেউ শারীরিক প্রতিবন্ধিতার ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে দাবি করেছেন।
যেই হাতে ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে সেই হাত ধীরে ধীরে প্রচন্ড ব্যাথায় অবশ হয়ে যাচ্ছে। এতে কয়েকজন কিশোর সেই দিয়ে লিখতে নাপারার দাবি করেছেন।
স্বরজমিনে গিয়ে গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের শ্রীকালিয়া গ্রামে শিশু ও নারীদের করুন দৃশ্য দেখা যায়। দেড় বছরের সন্তান আবদুল আহাদের মা রোকাসানাকেও শিশুর অ্যালার্জিজনিত কারনে ইনজেকশন দেয় কথিত চিকিৎসক রিয়াজুল হক ওরপে রিয়াজ। এতে শিশুটির মা রোকসানারও ইনজেকশন দেওয়া স্থানে ক্ষতের সৃষ্টি হয়।
তার অপচিকিৎসা শিকার হয়ে যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছেন শিশু আব্দুল আহাদ (১.৫),ইয়াসিন (১১),জিহাদ (১৫),হাফেজি মাদ্রাসায় পড়ুয়া আহাদ হোসেন (১৩) ও

ফাতেমা বেগম (৬৫)সহ আরো অনেকে। চিকিৎসক না হয়েও রিয়াজুল হকের ভুল চিকিৎসায় ভুক্তভোগীরা দেশের খ্যাতনামা চিকিৎসকদের স্বরনাপন্ন হয়ে এই যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পায়নি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রোকসানা ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে ৫ই জুলাই স্বরজমিনে তদন্ত করে একদল চিকিৎসক। তদন্ত কমিটির সদস্যরা ভুল চিকিৎসায় এমন হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে যে তদন্ত কমিটির গঠন করা হয়েছে, তাদের সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীর শাস্তিও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পাশে দাড়ানোর অনুরোধ করেছেন সমাজের অন্যান্য শ্রেণীপেশার ব্যাক্তিবর্গরা।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী একটি অসাধু চক্র প্রতারক ও ভুয়া চিকিৎসক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর চিকিৎসা ব্যবস্থায় সহায়তার আশ্বাস দিয়ে ভিন্নখাতে প্রভাহিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ আমরা মাসের পর তাদের পিচে পিচে ঘুরেছি, তখন তারা পাত্তা দেয়নি। আমাদের সব কিছু উজার করে তাদের সুস্থ্যতার জন্য আমরা চিকিৎসা চালিয়ে গেছি। এখন আমরাও নিঃস্ব।
আর কোন মাসুষ যেন আমাদের মত ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের কর্তা হাসান জানান, বিগত ৬মাস ধরে প্রতারক রিয়াজুলের কারনে আমার স্ত্রী সন্তান অসুস্থ্য। স্ত্রী আক্রান্ত হাতে কোন কাজ করতে পারতেছেনা। অসহ্য ব্যাথায় দিন কাতরাচ্ছে। সাথে ১দেড় বছরের শিশু সন্তান আবদুল আহাদ, আবদুল আহাদকে দেখলে মনে হবে কয়েকমাসের শিশু।
এই রিয়াজুলের কারনে আমার সব শেষ। আমি এর বিচার চাই।
চাঁদপুর জেলা সিভিল সার্জন নুর আলম দ্বীন বলেন, কেউ চিকিৎসক নাহয়ে চিকিৎসা দেওয়া অন্যায়। কেউ ভুল চিকিৎসা দিয়ে থাকলে অবশ্যই শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছে।
