খোলা চোখে www.openeyedbd.com

খোলা চোখে

খবরের অন্তরালে

ফরিদগঞ্জে প্রাইমারি স্কুলের বরাদ্দের টাকা আত্মসাত করলেন ইউপি চেয়ারম্যান

Spread the love

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১২নং চরদুঃখিয়া পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহানের বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ কাজ না করে আত্মসাৎ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে|
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ১% স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করের আওতায় চরদুঃখিয়া পূর্ব ইউনিয়নের ৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও রাস্তা সংস্কারের জন্য ৩,৭০,০০০ (তিন লক্ষ সত্তর হাজার) টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়| তবে অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্পের কোনো কাজ না করেই এই সম্পূর্ণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে| ৫টি বিদ্যালয় পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়াগেছে|
উপজেলা নির্বাহী অফিসার  বরাবর প্রেরিত প্রকল্প অনুমোদন ও প্রাক্কলন ˆতরির তালিকায় দেখা যায়, মোট পাঁচটি বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও রাস্তা সংস্কার কাজের জন্য ৩ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার একটি যৌথ প্রকল্প পাঠানো হয়েছিল| বিদ্যালয়গুলো হলো:
  পূর্ব লাড়ুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প. বিশকাটালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,চরদুঃখিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ বিশকাটালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,পূর্ব চরদুঃখিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়| উপজেলা নির্বাহী অফিস সূত্রে নিশ্চিত করেছেন বরাদ্দের টাকা উত্তোলন করেছেন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান|
স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীদের দাবি, কাগজ-কলমে প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ ছাড় করা হলেও বাস্তবে বিদ্যালয়গুলোতে কোনো সংস্কার বা উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়নি| চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি এই অর্থ নিজের পকেটে পুরেছেন বলে তারা অভিযোগ করেন| প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের টাকা এভাবে লোপাট হওয়ায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে|
  পূর্ব লাড়ুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল হাই বলেন, বিগত কয়েক বছরে আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য কোন উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়নি| একবার বার্ষিক ক্রীয়া অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান একটি সিলিংফ্যান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন|  এছাড়া তিনি বিদ্যালয় এমনকি বিদ্যালয়ের রাস্তার কোথায়ও কোন কাজ করেননি|
পূর্ব চরদু:খিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এফতেখার হোসেন বলেন, আমি নিশ্চিত বিগত ৩-৪ বছরের মধ্যে আমাদের স্কুলে ইউনিয়ন পরিষদের কিংবা চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে কোন ধরনের বরাদ্দের কাজ করা হয়নি|
ইউপি সদস্য মোহাম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, চেয়ারম্যানের এ আমলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোন কাজ করা হয়নি| কাজ না করে টাকা আত্বসাত করেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান আমাদের কিছু জানায় না|
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রথমে দাবি করেন, “আমিতো কাজ করেছি|”
তবে যখন তাকে সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয় যে—৫টি স্কুলের কোথাও কাজের কোনো আলামত নেই এবং প্রধান শিক্ষকরাও কাজের বিষয়টি অ¯^ীকার করেছেন; তখন তিনি সুর বদলে বলেন, “আমি ফিরোজপুর হাই স্কুলের মাঠ ভরাট করেছি|”
পরবর্তীতে হাই স্কুলের মাঠের কাজও এলজিইডির বরাদ্দে হয়েছে এবং প্রাইমারি স্কুলের টাকা কেন সেখানে যাবে—এমন প্রশ্নের মুখে একপর্যায়ে দুর্নীতির কথা কার্যত ¯^ীকার করে চেয়ারম্যান বলেন, “এটা সত্য যে, প্রাইমারি স্কুলের কোনো কাজ করিনি| বরাদ্দের টাকা আনতেই অনেক টাকা খরচ হয়ে যায়|” কিভাবে কত টাকা খরচ হয় জানতে চাইলে বলেন, সেটা আপনারাও জানেন পারলে সেখানে খবর নেন|

এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত সরকারি টাকা উদ্ধার এবং অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী|

ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, প্রাইমারি স্কুলের নামে বরাদ্দের টাকা আত্বসাতের বিষয়ে আমরা তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিব|

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *