খোলা চোখে www.openeyedbd.com

খোলা চোখে

খবরের অন্তরালে

ফরিদগঞ্জে নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধারে থানায় মবসৃষ্টি হামলা মামলায় আটক ১

Spread the love

ফরিদগঞ্জ থানায় কিশোরী নিখোঁজে থানায় সাধারন ডায়েরি পরবর্তী উদ্ধারে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র থানায় মব সৃষ্টি করে হামলার ঘটনায় মামলায় ১জনকে আটক করা হয়।এই সংবাদ লেখা পর্যন্ত অন্যরা পলাতক রয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

ঘটনাসূত্রে জানা যায়, 

১৩ অক্টোবর কিশোরী নিখোঁজ ঘটনায় ওইদিন রাতে ফরিদগঞ্জ থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন কিশোরীর বাবা মাহমুদ হোসেন।

পরের দিন ১৪ অক্টোবর ফরিদগঞ্জ থানার এ আই রাকিবুল হাসান সঙ্গীয় ফোর্স কিশোরীর অবস্থান সনাক্ত করতে সক্ষম হয়। নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধ্যার করতে দেরি কেন, উদ্ধারের পর নিখোঁজের সাথে জড়িত ছেলেকে আটক করা হয়নি কেন, এ নিয়ে ফরিদগঞ্জ থানার পুলিশের উচ্চবাচ্য ও হুমকি ধমকি দিয়ে মবসৃষ্টির সৃষ্টা করেন কিশোরীর বাবা, ভাই, জ্যাঁঠা, মামা ও পরিবারের সদস্যরা। এসময় দায়িত্বপালনে পুলিশ সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী।

 পুলিশ ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে আদালতে পাঠালে তার সরল স্বীকারোক্তি পাওয়ায় তাকে সেফ কাস্টডিতে পাঠিয়েছে বিজ্ঞ বিচারক। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে কিশোরীকে উদ্ধারের দিন  ভিকটিমের বাবা মাহমুদ হোসেন (৫১) ও তার জ্যাঠা মো. জাকির হোসেন (৬২) তাদের কিশোরী কন্যাকে উদ্ধার অভিযানে দেরি হয়েছে অভিযোগ তুলে রাত আনুমানিক ১১ টা নাগাদ থানা বাউন্ডারীর ভিতরে প্রবেশ করে পুলিশকে হুমকি-ধমকি প্রদান ও বিকট শব্দে থানার সামনে চিৎকার চেচামেচি করে। পুলিশ সদস্যরা তাদেরকে বার বার অনুরোধ করে বলেন, আপনাদের মেয়েকে উদ্ধার করে থানায় আনা হচ্ছে, তারা পথে আছে, আপনারা শান্ত হন। কিন্তু তারা থানা এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে গোলযোগ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। তাদের থামাতে হিমশিম খেতে হয়েছে পুলিশকে। এতে উৎসুক জনতার ভীড় জমে যায় থানা এলাকায়।

ঘটনাচক্রে  স্থানীয় বাসিন্দা মো. আফসার উদ্দিন ও বিল্লাল হোসেন  কোম্পানী থানায় প্রবেশ করেন। সেখানে উপস্থিত আরও  লোকজনসহ কথা বলেন। কিছুক্ষণ পর আফসার উদ্দিন ও বিল্লাল হোসেন  কোম্পানী তারা দু’জনই মোটর সাইকেলযোগে বাড়িতে ফেরার পথে মো. আফসার উদ্দিন (৭০)কে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করে এবং নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনসহ নানান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মারধরের শিকার মো. আফসার উদ্দিন বাদী হয়ে কিশোরীর বাবা মাহমুদ হোসেন, ভাই মো. রিফাত ও জ্যাঠা মো. জাকির হোসেনসহ ৪ জনকে এজহার নামীয় আসামী ও অজ্ঞাত আরও ৫ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে মো. জাকির হোসেনকে( কিশোরীর জ্যাঁঠা)  গ্রেপ্তার করে। কিশোরীর বাবাসহ অপর অপরাধীরা পালিয়ে যায়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পুলিশ মো. জাকির হোসেনকে আদালতে পাঠালে বিজ্ঞ বিচারক তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন।

মারধরের শিকার  মো. আফসার উদ্দিন বলেন, আমি পারিবারিক একটি ঘটনায় থানায় আইনি পরামর্শ নিয়ে মোটর সাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় উজ্জলের রেস্টুরেন্টের সামনে পৌঁছালে মো. জাকির হোসেন গংরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার গতিরোধ করেন। তারা আমাকে মারধর করে মোবাইল ফোন, নগদ টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা  আমাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় আমি থানায় মামলা দায়ের করেছি। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি করছি।

মেয়েকে অপহরণের মামলার বাদী মাহমুদ হোসেনের 

 বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল দিলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

ফরিদগঞ্জ থানার এস আই রকিবুল হাসান বলেন, নিখোঁজ ডায়েরির ও প্রযুক্তির তথ্যে আমরা কিশোরীর অবস্থান সনাক্ত করতে পেরে তাকে উদ্ধার করতে যে সময়টুকু দরকার,সে সময়টুকু নাদিয়ে উল্টো হুমকি ধমকি দিলো। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমরাও মানুষ। আমাকে সারাদিন ডিউটি করে ড্রেস চেঞ্জ করতে বাসায় যাওয়ার পথে পর্যন্ত বাঁধা দেওয়া হয়েছিল। বাজারের মানুষজন তা দেখেছে।

 ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ বলেন, ভিকটিম কিশোরীর বাবার 

 অভিযোগের  প্রেক্ষিতে কিশোরীকে  উদ্ধারপূর্বক আদালতে পাঠানো হলে বিজ্ঞ বিচারক ভিকটিমের বক্তব্য রেকর্ড করে তাকে সেফ কাস্টডিতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। অপহরণ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ওসি আরও জানান, ভিকটিম কিশোরীর বাবা ও তার জ্যাঠাসহ সঙ্গীয় কয়েকজন মো. আফসার উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে হামলা, মারধর ও ছিনতায়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এজাহার নামীয় আসামি মো. জাকির হোসেনকে আদালতে পাঠালে বিজ্ঞ বিচারক তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অপর আসামিদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 সার্কেল এসপি (ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ) মুকুর চাকমা বলেন,  কিশোরীকে কক্সবাজার থেকে  উদ্ধ্যার করা হয়েছে,  উদ্ধারে দেরি হওয়াতে ভিকটিমের পরিবার  উদ্ধিগ্ন ছিলেন, 

থানার সামনে মারামারির ঘটনায় ১জনকে আটক করা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া কিশোরী পুলিশ কাস্টডিতে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *